Breaking News
Loading...
শনিবার, জুলাই ১৯, ২০১৪

স্বপ্নীল অপ্সরী


Shopner Opshori by Mostafizur Firoz


আব্বুঃ কিরে, তোর আম্মু তোর জন্য এত সুন্দর একটা মেয়ে দেখেছে তা বিয়েতে রাজি হচ্ছিস না ক্যান?
আমিঃ কই?
আব্বুঃ তোর আম্মুই তো আমাকে বললো।
আমিঃ ওহ।
আব্বুঃ তা তোর সমস্যাটা কোথায়?
আমিঃ এমনি, কোনো সমস্যা নেই।
আম্মুঃ [রান্না ঘর থেকে] তুমি যাও, আমি ওর সাথে ভালভাবে কথা বলে দেখছি।
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
আব্বুর প্রস্থান।
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _


আম্মুঃ এইবার সত্যি করে বলতো তোর সমস্যাটা কোথায়? মেয়েটির কোনো সমস্যা আছে নাকি তুই কাউকে ভালোবাসিস?
আমিঃ ঐ মেয়ের কোনো সমস্যা নেই।
আম্মুঃ তাইলে তোর প্রবলেমটা কোথায়?
আমিঃ আমি একজনকে ভালবাসি।
আম্মুঃ তা এটা আগে বলবি তো।
আমিঃ তা বললেই বাঁ কি হতো?
আম্মুঃ ক্যান?
আমিঃ আব্বু তো জানেন কেমনই, উনি কি এসবে কান দেন?
আম্মুঃ তা বলেই তো দেখতে পারতিস। তা তুই যে মেয়েটাকে ভালবাসিস তার নাম কি, বাড়ি কোথায়?
আমিঃ জানিনা। [বলেই বাসা থেকে প্রস্থান]
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

বিকালে অনেক শোরগোল শুনে বাসার সামনে এসে তো এমন কিছু দেখলাম যা আমাকে স্তম্ভিত করতে বাধ্য করলো। কয়েক সেকেন্ডের জন্য কেনো জানি নিচের চোখকেও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল।কেননা সেটা ছিল যে আমার সেই অপ্সরী যাকে ছুয়ে দেখা তো দূরে থাক, দূর থেকে ভালবাসার কথাও যে ভাবতেই কেমন যেন ভয় হয়। তাই কিছু সময় ওভাবেই থাকলাম। পরে কার যেন কান্নার শব্দে সম্বিত ফিরে পেলাম। চেয়ে দেখি অপ্সরী এর চোখে জল। বিষয়টা দেখে বুকের ভিতরে কোথায় যেন আলতো করে একটা ধাক্কা খেলাম। কেননা, অমন চাঁদমুখে যে শুধু হাসিই মানায়, অশ্রুর ছিটেফোঁটাও যে সেখানে বড্ড বেমানান।

আম্মুর ডাকে সব চিন্তার জাল দূর হলো।
আম্মুঃ কিরে, ও নাকি কারে যেন ভালবাসে।
আমিঃ হুম।
আম্মুঃ তা তোর এটা আগে বলতে কি হয়েছিল রে।
আমিঃ [কিছু না বলে নির্বাকের মত দাঁড়িয়ে থাকলাম]

_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

পরে রাতে শুনি অপ্সরীকে নাকি একটা রুমে তালাবন্দি করে রাখা হয়েছে। কিছু খেতে দিলেও নাকি খাচ্ছে না, শুধু কাঁদছে আর বাড়ি যেতে চাইছে। খানিক পরে আব্বু এসে বললো, ওকে নাকি খোজা শুরু হয়েছে, আমাদের এখান থেকেই এক্ষুনি চলে যেতে হবে। আব্বু দেখি একটা মাইক্রো এর ব্যবস্থা করে এনেছে। আমরা তাড়াতাড়ি মাইক্রোতে উঠে পড়লাম। অপ্সরীকেও তোলা হল, তবে আমাদের সাথে নয়, পিছনের বাঙ্কারে। তারপর আমাদের মাইক্রো ছুটে চলল আমাদের গ্রামের বাড়ির পথপানে। আর সেই সাথে চলতে থাকলো আমার ভাবনার গাড়িও। ভাবতে ভাবতে কখনো যেন মুখে ম্লান হাসি ফুটে উঠছিল, আবার অপ্সরী এর কথা ভাবতেই মনটা কেমন করে উঠছিল। এটা-সেটা ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে গেছিলাম টের পাইনি। পরে আম্মুর ডাকে উঠে দেখি গ্রামের বাড়িতে পৌছে গেছি। আর ভোরের আলো ফোটাও শুরু করে দিয়েছে। কিছু মোরগের ডাকও শুনতে পেলাম। মাইক্রো থেকে নেমে আমাদের সবার থাকার ব্যবস্থা হলো। আর অপ্সরীর ব্যবস্থা হলো আগের মত বন্দী রুম। রাতে কিছু খাওয়া হয়নি তাই গোসলটা সেরে আগেই পেট পূজার মহান দায়িত্বটা পালন করতে একদম দেরী করলাম নাহ। পরে বিছানায় গা এলিয়ে দিয়ে আমার অপ্সরী এর কথা ভাবা শুরু করলাম, কিন্তু কি যে ভাবছিলাম আর কি বুঝছিলাম তার কিছুই নিজেও বুঝতে পারছিলাম না। তারপর কখন যে ঘুমের দেশে চলে গেলাম টেরই পাইনি।


ঘুম ভাঙতে ভাঙতে বিকাল গড়িয়ে গেলো। আমি বারান্দায় বেড়িয়ে আম্মুকে দেখতে পেলাম কাকীদের সাথে কথা বলছে। আমাকে দেখে সেখান থেকে আমার দিকে আম্মু এগিয়ে আসতেই আমি আম্মুকে ওর কথা জিজ্ঞেস করলাম।
আম্মুঃ কি যে ঝামেলা শুরু হয়েছে বুঝলাম না। একদিকে মেয়েটা কাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত কিছুই খাচ্ছে না, সারাদিন শুধু কাঁদছে। তারপর ওর আব্বু নাকি আমাদের সবার নামে অপহরণ কেস দিয়ে দিছে।
আমিঃ বলেন কি?
আম্মুঃ হুম। তারপর আবার এখানকার কেউ জানে না যে আমরা ঐ মেয়েটাকে সাথে করে এনেছি সেটা।
আমিঃ তাহলে এখন কি হবে?
আম্মুঃ কি হবে সেটাই তো ব্যাপার। আর এখন মেয়েটা যদি ঐভাবে না খেয়ে থেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে আর কিছু হয়ে যায় তাহলে তো আমরা সবাই মার্ডার কেসের আসামী হয়ে যাবো। আর মেয়েটা এত সুন্দর যে ওকে ঐ অবস্থায় দেখলেই তো আমারো খুব কান্না পাচ্ছে।
আমিঃ আচ্ছা, আমি ওর সাথে কথা বলে দেখছি।
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _

আমি তারপর খাবার নিয়ে অপ্সরী এর রুমে প্রবেশ করলাম। গিয়ে দেখি ও খাটে শুয়ে ছিল, আমার যাওয়ার শব্দে অনেক কস্টে বিছানায় উঠে বসলো। এটুকু উঠে বসাতেই যেন তার দেহের সব শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছিল। বুঝলাম ও অনেক ক্লান্ত আর একদিন না খেয়ে আরো বেশি ক্লান্ত-শ্রান্ত হয়ে পড়েছে। মা-বাবার অনেক আদরের মেয়ে কখনো এতটুকু কষ্টও বুঝি করেনি। তাই এই পরিবেশের সাথে তাল মিলাতে পুরা নাজেহাল হয়ে পড়েছে। তারপর হঠাত করে ওর চোখের দিকে তাকাতেই বুকের ভিতর ধক করে উঠলো, এ আমি কাকে দেখছি? একি সেই অপ্সরী যার চোখের দিকে তাকিয়ে সবার মন এক নিমিষেই হারিয়ে যেতে চাইবে? একি সেই অপ্সরী যার চোখের দিকে তাকালে চির শত্রুও মিত্রতা করতে ব্যাকুল হয়ে পড়বে? একি সেই অপ্সরী যার চোখের দিকে তাকালে চরম বিপদেও বিপদের কথা ভুলে মুখে হাসি ফুটে উঠবে? যার ঠোটের একটুখানি হাসিতে হৃদয় হরণ হয়ে যাবে। আমি আর ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে পারলাম না। ওকে কি বলবো  কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না। শুধু নীরবতার ভিতরে ওর কান্নার শব্দটাই যেন জীবনের আভাসটুকু প্রকাশ করছিল। আর সেই কান্নাটা যেন ও কাঁদছিল না, সেটা বাকরুদ্ধ হয়ে  কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিল আমার মন। কি দোষ ছিল ওর? কি অপরাধ করেছিল ও? আর কোন কারণেই বাঁ ওকে এখানে তুলে আনা হয়েছে? আমার মন কিছুতই এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুঁজে পাচ্ছিল নাহ। আর কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না যেটা বলে ওকে সান্তনা দিব। আমার মাথা যেন কোনোভাবেই আর কাজ করছিল নাহ। হঠাত ওর হাতটা ধরে বললাম চল।


ওকে নিয়ে চলতে থাকলাম গ্রামের বাস-স্ট্যান্ডের দিকে। ওকে বাসে তুলে দিলাম। ওকে একা ছাড়া ঠিক হবে নাহ, তাই বিপদ হলেও আমাকে ওর সাথে যাওয়া দরকার। ওকে জানালার পাশে বসিয়ে দিয়ে আমি ওর পাশের সিটে বসলাম। নিজেকে অনেক বড় অপরাধে অপরাধী মনে হছিল, তাই আর সাহস করে ওর দিকে তাকাতে পারলাম নাহ। ওর চাঁদমুখখানি চাঁদের আলোতে দেখার তাই একান্ত ইচ্ছাটাকেও নিজের ভিতরে চাপা দিয়ে রাখালাম। আর ভাবতে থাকলাম, সবকিছু সবার জন্য নয়। এই পৃথিবীর সব সুন্দর, সব মায়াবীয়তা সবার জন্য নয়। এগুলো যদি সবার জন্য হতো, তাহলে এগুলো সবার কাছে সস্তাই মনে হতো। থাকতো না তার আলাদা কোনো কদর। তাহলে সাধারণ আর অসাধারণের পার্থক্যটাই বাঁ থাকতো কোথায়? তাই সেভাবে সবার ভালবাসাও সবার জন্য না। সব ভালবাসা যদি সবার জন্য হতো তাহলেও তার আলাদা গুরুত্ব, তাপর্য থাকতো কোথায়? তাই বলে তার ভালবাসা না পাওয়া যাক, তাকে ভালবাসা যাবে না তেমনতো নাহ। তাই আমি তার ভালবাসা না পাই তাকে ভালবেসে যেতে চাই অনন্তকাল। যে ভালবাসাতে জড়িয়ে থাকবে না কোনো স্বার্থ, থাকবে না কোনো পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। আমার অপ্সরী তাই আজীবন থেকে যাবে ঐ ভালবাসার অন্তরালে বাস্তবের অপ্সরীদের মত ঐ দূর আকাশে, ঐ মেঘের আড়ালে। সেখান থেকেও যেন আমি শুনতে পাবো তার হৃদয় হরণ করা মায়াবী হাসির শব্দ, মেঘের ভিতরে দেখতে পাবো যেন তার বামপাশের এলো কেশে জড়ানো চাঁদ বদন খানি যার দৃষ্টি থাকবে ডানদিকের কোনো ভাবনার ভিড়ে.....................

ভাই, আপনাদের ভাড়াটা !!
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _
_ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _ _


হঠা ঘুম ভেঙ্গে উঠে মোবাইলে সময় দেখি দুপুর ১২ঃ৩১। আর বারান্দায় আম্মু আর কাজের বুয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে। নিজের দিকে তাকাতেই দেখি ঘেমে গেছি। কিন্তু ফ্যানটা ভালোই ঘুরছে তো। জানালাটা আটকানো তাই বোধয় এত গরম লাগছিল। আমি আবার আলোতে ঘুমাতে পারি না, তাই এই ব্যবস্থা। অবশেষে পরিস্থিতি বুঝতে সক্ষম হলাম। তাহলে এত সময় আমি স্বপ্নের ভিতরেই ছিলাম। স্বপ্নের কথা ভাবতেই ক্যান জানি খুব ভালো লাগছিল আবার খুব লজ্জাও লাগছিল তার মাঝে মুখে যেন বইছিল লাজুক হাসির মৃদু ফোয়ারা। তড়িঘড়ি করে ফেসবুকে ঢুকলাম। ঢুকে দেখি ২ঘন্টা আগে অপ্সরী এর একটা রিপ্লে। আমিও সাথে সাথে একটা রিপ্লে করলাম। অপ্সরী এর সাথে আমার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ফেসবুক। তাই এভাবেই আমাদের যোগাযোগটা চলে। থ্যাংকস জুকারবার্গ। তুমি ছিলে তাই ভরসা। জয় জুকারবার্গ, জয় ফেসবুক আর জয় আমাদের _ _ _ _ _ ।
-   
         - - - - - - -  - -  - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - --  -- - - - -  -- -  -- -  - - - - -- -  --  -- -  - - 
         - - - - - - -  - -  - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - --  -- - - - -  -- -  -- -  - - - - -- -  --  -- -  - -


বিকাল ০৪:৪৩, ১৮ই জুলাই, ২০১৪
চালনা ।।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

পোস্টটি কেমন লাগলো অথবা কোনো সমস্যা হলে কমেন্ট করতে কিন্তু ভুলবেন না।

Quick Message
Press Esc to close
Copyright © 2012-2014 Mostafizur Firoz All Right Reserved. | Designed by Wrongdhonu. | Powered by Tips And Tricks World. |